টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ মানেই পঞ্চম দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সাধারণত এমন লড়াই দেখা যায় ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচে, তবে এবার মিরপুরে দর্শকদের এমনই এক রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দিয়েছে শান্তবাহিনী।
শ্বাসরুদ্ধকর মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। পঞ্চমদিনের শেষ সেশনে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে নায়ক বনে গেছেন নাহিদ রানা।
এই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। আর পাকিস্তান ৩৮৬ রানে অলআউট হলে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ব্যাট ছাড়লে ২৬৭ রানের লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ১৬৩ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। এতে ১০৪ রানের জয় পেয়েছে শান্ত-লিটনরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে মাত্র ২ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ইমাম-উল-হক।
এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মেহেদী মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস, করেন মাত্র ১৫ রান।বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক শান মাসুদও। নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় লিটনের গ্লাভসে, ২ রানেই বিদায় নেন তিনি।
আরও পড়ুন…হামে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
তবে চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজন মিলে যোগ করেন ৫১ রান। কিন্তু ফিফটি তুলে নেওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল।
১১৩ বলে ১১ চারে ৬৬ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই সালমান আগাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ফেরার আগে ৩৯ বলে ২৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
ষষ্ঠ উইকেটে দলকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু এই দুই ব্যাটারকেই ফেরান নাহিদ রানা। তার বলটি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তাতে ড্রাইভ খেলতে চেয়েছিলেন শাকিল।
কিন্তু ব্যাটের কোণায় লেগে বল লিটনের হাতে চলে যায়। পরের ওভারেই রানার ১৪৭ কি.মি. গতির ইন-সুইঙ্গারে লাইন মিস করে বোল্ড হন রিজওয়ান। এরপরে তাইজুলের আর্ম বল বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন হাসান আলী। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।
পাকিস্তানের শেষ দুটি উইকেটও নিজের ঝুলিতে পুরেন নাহিদ। নোমাল আলিকে বোকা বানানোর পর শাহিন শাহর উইকেটও ছিনিয়ে নেন গতিময় এই পেসার। তাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার তুলে নেন নাহিদ। তার এমন কীর্তিতে বাংলাদেশও ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়।
এর আগে, চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক শান্ত ৫৮ ও মুশফিক ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে পঞ্চম দিনে শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন ১১, মেহেদী মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩ ও তাসকিন আহমেদ ১১ রান করে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া চতুর্থ দিনে মাহমুদুল জয় ৫, সাদমান ১০ ও মুমিনুল ৫৬ রান করেছিলেন।