শিবচরে লোকসানের কারনে পান চাষীরা দিশেহারা

ইবাংলা.প্রেস | মাদারীপুর প্রতিনিধি | ১২ মে ২০২৬

ধানের দেশ বাংলাদেশ আবার পানের দেশ নামেও পরিচিত। বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে ধর্মীয় উৎসব—সব আয়োজনেই পান-সুপারি যেন অপরিহার্য উপাদান।

এর মধ্যে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁচিকাটা এলাকার ‘মিষ্টি পান’ স্বাদ, ঘ্রাণ আর গুণগত মানে দেশে-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু সেই বিখ্যাত পানের বাজারে নেমেছে মন্দা। কমেছে দাম, বেড়েছে উৎপাদন খরচ—ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন শত শত পানচাষি।

শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চল পানচাষের জন্য সুপরিচিত। শিবচর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে ৪৮৭ জন চাষি পান উৎপাদন করছেন। এখানকার পান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশেও রপ্তানি হয়।

কাঁচিকাটার বরজঘেরা মাঠে গেলে চোখে পড়ে ভিন্ন দৃশ্য। কোথাও কৃষকরা মুলি বাঁশে গাছ বেঁধে দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউবা বাজারে তোলার জন্য পান তুলছেন। সবুজ পাতার সমারোহে মন জুড়িয়ে গেলেও চাষিদের মুখে নেই হাসি।

৬২ বছরের চাষি মালেক সরদার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,৩৪ বছরের পুরোনো বরজ আছে আমার। এবারের অবস্থা এতটাই খারাপ যে না পারছি বরজ ভাঙতে, না পারছি রাখতে। বাজারে নিলে খরচই উঠছে না।

আরও পড়ুন…নাহিদের গতিতে বিধ্বস্ত পাকিস্তান মিরপুরে জয় বাংলাদেশের

অন্য এক চাষি মিঠুন শাহ জানান,এক বিঘা জমিতে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখনকার দামে তা তোলা দূরের কথা, শ্রমিকের মজুরি তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পানচাষি গোপাল বারৈই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমার জীবনে পানের দাম এত কম দেখিনি। গত বছর এক বিড়া পান (৭২টি) বিক্রি হয়েছিল ২২০ টাকা, এ বছর সেই পান ৭০–৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্য ফসলের জন্য সার-বীজে ভর্তুকি দেওয়া হলেও পানচাষিরা কোনো সহায়তা পান না।

অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, পানের বাজারমূল্য নির্ধারণ ও বিপণনের দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের। তিনি বলেন, একসময় এই অঞ্চলের পান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। এখন সেই রপ্তানি প্রায় বন্ধ। তবে পানচাষিদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

চাষিদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা ছাড়া এই ঐতিহ্যবাহী পানচাষ টিকে রাখা সম্ভব নয়। আর যদি অব্যাহত লোকসান চলতে থাকে, তবে “ধানের দেশ—পানের দেশ” বাংলাদেশ একদিন হয়তো শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ইবাংলা বাএ

কারনেচাষীরাদিশেহারাপান