ভিড়ের আশায় অপেক্ষা, কিন্তু জমেনি আফতাবনগর হাট

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ মে ২০২৬

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আগামীকাল (২৪ মে) থেকে রাজধানীর কোরবানির হাটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু বিক্রি শুরু হওয়ার কথা।এরই মধ্যে প্রায় সব হাটে পশু আসতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই কিছু বেচাকেনাও হয়েছে।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে আফতাবনগরের পশুর হাটে। আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও এখনো জমে ওঠেনি হাটটি, ক্রেতাদের আনাগোনাও নামমাত্র। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, হাটের অতিরিক্ত দূরত্ব, প্রচারণার অভাব এবং তুলনামূলক কম পশু আসার কারণেই এখনও জমেনি ঈদের আমেজ।

শনিবার (২৩ মে) সরেজমিনে রামপুরা ব্রিজের প্রধান সড়ক থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে আফতাবনগর সংলগ্ন স্বদেশ প্রপার্টির ‘সানভ্যালী বালুর মাঠে’ অবস্থিত অস্থায়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় সুনসান নীরবতা।

বাঁশ ও শামিয়ানা টাঙিয়ে পশু রাখার ব্যবস্থা করা হলেও হাটের পরিধি অনুযায়ী গরুর সংখ্যা বেশ কম। বিশাল মাঠের এক পাশে কিছু গরু নিয়ে বসে আছেন বেপারীরা।

হাটের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বুথ, পশু চিকিৎসকের বুথ এবং বন্ধ হাসিল ঘর চোখে পড়ে। এবার এই হাটের ইজারাদার তহিরুল ইসলাম তুহিন।

আবাসিক এলাকা থেকে দূরে, যাতায়াতই বড় বাধা, আগে এই হাটটি বসত আফতাবনগরের ভেতরের মূল সড়কে, লোহার ব্রিজ থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত। সেটি ছিল আবাসিক এলাকা ও বাসাবাড়ির একেবারে পাশে।

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছর সেখানে হাট বসেনি। এবার আদালতের নির্দেশনা মেনে আবাসিক এলাকার বাইরে, একেবারে শেষ প্রান্তে সানভ্যালী বালুর মাঠে হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জায়গাটি খোলামেলা ও সুন্দর হলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সেখানে পৌঁছানোই যেন এক বড় যুদ্ধ।বনশ্রীর বাসিন্দা মেহেদি হাসান ছোট ভাইকে নিয়ে হাট দেখতে এসে বলেন, এবারের হাটটি অনেক বেশি ভেতরে হয়েছে।

আরও পড়ুন…৫৭ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে বাকুতে শেষ হলো WUF13

যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো না। রামপুরা ব্রিজে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা রিকশা পেয়েছি। কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই। এত ভেতরে সাধারণ মানুষ আসতে চাইবে না।

আরেক দর্শনার্থী মো. অনিক বলেন, হাটটি এত ভেতরে যে এখান থেকে পশু কিনে নিয়ে যাওয়ার আগেই মানুষ এবং পশু ক্লান্ত হয়ে যাবে। তবে জায়গাটা খোলামেলা, অন্য হাটের মতো গাদাগাদি পরিবেশ নেই।
ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারীরা

গত ১৯ মে পাবনা থেকে ২২টি বড় আকারের গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন আবদুর রহমান বেপারী। চারদিন পার হলেও এখনো কোনো ক্রেতার দেখা পাননি তিনি।

তিনি বলেন, চারদিনে কেনার মতো একজন ক্রেতাও আসেনি। দু-একজন আসে, দেখে চলে যায়। দামও জিজ্ঞেস করে না। তবে আশা করছি আগামীকাল থেকে বিক্রি বাড়বে।

আগে আসার কারণ ছিল ভালো জায়গা পাওয়া। দেরিতে আসলে তো জায়গাই পাওয়া যায় না।তার হাটে আনা গরুর দাম ৩ লাখ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত।

সিরাজগঞ্জ থেকে নয়টি মাঝারি আকারের গরু নিয়ে আসা হালিম মিয়া বলেন, জায়গাটা ফাঁকা এবং নিরাপত্তা ভালো। কিন্তু আশপাশে কোনো খাবারের দোকান নেই। খাওয়ার জন্য অনেক দূরে যেতে হচ্ছে।

গরুএদিকে পশু চিকিৎসকদের বুথে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন পাবনার বেপারী রমিজ মিয়া। তিনি বলেন, আমার একটি গরু ট্রাক থেকে নামানোর সময় পায়ে ব্যথা পায়। চিকিৎসার জন্য ডাক্তার এসে চিকিৎসা দেওয়ার পর এক হাজার টাকা চেয়েছে।

আগামীকাল থেকে হাট জমে যাবে, হাটের সার্বিক প্রস্তুতি ও বেপারীদের অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হয় হাট পরিচালনাকারীদের একজনের সঙ্গে।

হাট অনেক দূরে সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আফতাবনগরে অনেক খালি জায়গা ছিল। কিন্তু এলাকার কিছু লোক হাই-এলিট সোসাইটির নাম দিয়ে গত তিন বছর মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে।

এটা মুসলমানের দেশ, কোরবানির ব্যবস্থা তো কোথাও করতেই হবে। এবার হাট অনেক ভেতরে হওয়ায় কাস্টমার ও বেপারীদের কষ্ট হচ্ছে, তারপরও যতটুকু সম্ভব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাবারের দোকান ও বেপারীদের সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, নতুন জায়গা হওয়ায় এখানে জনবসতি কম। তাই হোটেল বা খাবারের দোকান হতে একটু সময় লাগছে। এছাড়া অজ্ঞান পার্টির ঝুঁকির কারণে যাকে-তাকে দোকান বসাতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেক বেপারী নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন।

ওয়াশরুম ও পানির বিষয়ে তিনি জানান, হাটের পাঁচটি স্থানে মোট ৪০টি ওয়াশরুম করা হয়েছে। পাঁচটি সাবমারসিবল পাম্প বসানো হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক চালু থাকে। প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের পানির ব্যবস্থা রয়েছে।

হাসিল কাউন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরুর আগেই কাউন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এতদিন নিয়মের কারণে কাঁচা রসিদ দেওয়া হলেও আজ থেকে পাকা রসিদে হাসিল আদায় শুরু হয়েছে।

পশু চিকিৎসকদের অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বা ফ্রি ডাক্তার থাকলেও বাঙালির স্বভাব সবকিছু ফ্রি খোঁজা। ডাক্তাররা কষ্ট করে হাটে এসে গরু দেখলে বেপারীরা খুশি হয়ে কিছু বকশিশ দিতেই পারে। এটাকে বড় করে দেখা ঠিক না।

২০০৯ সাল থেকে আফতাবনগর হাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মাহমুদ হাসান শাহীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হলে এবং প্রচার-প্রচারণা বাড়লে হাটের চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।

ইবাংলা বাএ

আফতাবনগরজমেনিহাট