ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এসএমই) খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ২৭ জুন ‘ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
বার্তায় মহাসচিব বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলো বিশ্বজুড়ে পরিবারকে সহায়তা করে, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, এসএমই খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারের প্রভাব, উচ্চ শুল্ক এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটিয়ে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি করেছে।
আরও পড়ুন…চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন কাঁচামালের উৎস অনুসন্ধান এবং নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মহাসচিব।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারে এবং অর্থায়নের খরচ কমাতে পারে, সেজন্য আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
বার্তার শেষাংশে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার এই সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ ও কার্যকর বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলোকে আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও সুযোগের প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।