শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ওয়াংচুকের

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার পর তিনি এ ঘোষণা দেন।

গত ২৮ জুন রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে অনশনে যোগ নেন সোনম ওয়াংচুক। এরপর থেকে তিনি শুধু পানি ও লবণ গ্রহণ করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার ওজন ৯ কেজিরও বেশি কমেছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৮ জুলাই পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন…খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে

ঘটনার পর রাজধানীর নতুন দিল্লি, মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্বসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশি হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী তরুণদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা দেখে তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, আন্দোলনের নেতাদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া না হলে, অথবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে এসে তাদের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী তরুণদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সরকার ও পুলিশকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।পরে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তাটি সোনম ওয়াংচুকেরই।

এদিকে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, সংসদমুখী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।

তার দাবি, লাঠিচার্জে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। এক তরুণী গলায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জবাবদিহি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চলমান এই আন্দোলনকে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সরকারবিরোধী গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইবাংলা বাএ

ওপরশিক্ষার্থীদেরহামলার