আর নেই মেসির বাবা

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ আগস্ট ২০২৬

বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে ক্লাব ফুটবলে যোগ দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এর মাঝেই বড় দুঃসংবাদ পেয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি।

ইনফোবের তথ্য অনুযায়ী, লিওনেল মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি গত রাতে রোজারিওর একটি ক্লিনিকে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন…হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

মেসির বাবা হওয়ার পাশাপাশি হোর্হে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের এজেন্টও। স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির সঙ্গে তার চারটি সন্তান ছিল—লিওনেল মেসি, রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পথে মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তার বাবা।

শৈশবে মেসি গ্রোথ হরমোনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় আর্জেন্টিনার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের যুবদলে খেলা মেসির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছিলেন হোর্হে। ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মেসি যখন স্পেনে পাড়ি জমান, তখন সঙ্গে ছিলেন হোর্হেও।

বাবা-ছেলে যখন বার্সেলোনায় নতুন জীবন শুরু করেন, পরিবারের বাকি সদস্যদের দেখাশোনার জন্য সেলিয়া থেকে যান রোজারিওতে। পরে মেসির ক্যারিয়ারের সব দিক সামলাতেন হোর্হে। চুক্তি, ট্রান্সফারসহ মাঠের বাইরের সব বিষয়ে ছেলের পাশে ছিলেন তিনি।

জনসম্মুখে তিনি খুব একটা আসতেন না এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও কম দিতেন। জার্মানির ‘কিকার’ ও স্পেনের ‘ইনফরমে রবিনসনের’ মতো কিছু গণমাধ্যমে কথা বললেও বেশিরভাগ সময় তিনি প্রচারবিমুখই ছিলেন।

মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের অর্জন ও পরিবারের নানা মুহূর্ত শেয়ার করতেন তিনি। বিশ্বকাপসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পরিবার নিয়ে গ্যালারিতে দেখা যেত তাকে।

তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো খেলা দেখতে গেলেও হোর্হে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সেভাবে দেখা যায়নি; যা নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা হয়েছিল। ইনফোবায়ে তখনই জানিয়েছিল, হোর্হে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

ছেলের শৈশবে ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে যিনি পথ খুঁজে বের করেছিলেন, ১৩ বছর বয়সী মেসিকে সঙ্গে নিয়ে যিনি ইউরোপে জীবন শুরু করেছিলেন—সেই বাবা কয়েক দশক ধরে ছেলের পাশে ছিলেন এজেন্ট হয়ে। মেসির ফুটবল যাত্রার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী সেই বাবা ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

ইবাংলা বাএ

আরনেইবাবামেসির