জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০৩৫ সালকে সামনে রেখে ১০টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে তুরস্কের কপ-৩১ প্রেসিডেন্সি। আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১কে ঘিরে এসব অগ্রাধিকার, গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ও থিমভিত্তিক কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে প্রেসিডেন্সির প্রকাশিত তৃতীয় ‘লেটার টু পার্টিজ’-এ।
কপ-৩১ প্রেসিডেন্ট-ডিজাইনেট মুরাত কুরুম স্বাক্ষরিত চিঠিতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের নির্ধারিত ১০ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ও বিদ্যুতায়ন, শূন্য বর্জ্য ও মিথেন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-সহনশীল নগর ও অবকাঠামো, সবুজ শিল্পায়ন, তরুণ ও শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, সমুদ্র ও মহাসাগর, জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রিও কনভেনশনগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জলবায়ু কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে পৌর কঠিন বর্জ্যের সম্ভাব্য বার্ষিক বৃদ্ধির পরিমাণ অন্তত ৫০ শতাংশ কমানো এবং ভবন খাতে জ্বালানি ব্যবহারের তীব্রতা অন্তত ২৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সার্কুলার উপকরণ ব্যবহারের হার অন্তত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে সবার জন্য জলবায়ু কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় এলাকার সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহনশীল ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় জলবায়ু ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্পে রূপ দিতে দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য ‘ক্লাইমেট ইমপ্লিমেন্টেশন ব্রিজ’ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কপ-৩১-এ প্রতিদিন আলাদা থিম:
আনতালিয়ায় মূল জলবায়ু আলোচনা চলার পাশাপাশি ৯ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন আলাদা থিমে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
৯ নভেম্বর খাদ্য, কৃষি ও স্বাস্থ্য; ১০ নভেম্বর জ্বালানি ও পরিবহন; ১১ নভেম্বর শূন্য বর্জ্য; ১২ নভেম্বর জলবায়ু-সহনশীল নগর ও নির্মিত পরিবেশ; ১৩ নভেম্বর অর্থায়ন ও বাণিজ্য; ১৪ নভেম্বর শিশু, তরুণ, শিক্ষা ও দক্ষতা নিয়ে আলোচনা হবে।
১৫ নভেম্বর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, ১৬ নভেম্বর বিজ্ঞান, শিল্প ও প্রযুক্তি, ১৭ নভেম্বর মহাসাগর, সমুদ্র, প্রকৃতি, ভূমি ব্যবহার ও রিও সমন্বয়, ১৮ নভেম্বর মানবিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং ১৯ নভেম্বর জলবায়ু কার্যক্রম বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত আলোচনা।
১১-১২ নভেম্বর লিডার্স সামিট:
কপ-৩১-এর লিডার্স সামিট অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রমে রাজনৈতিক গতি বাড়ানো, অংশীদারত্ব তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কপ-৩১-এর আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করবে তুরস্ক। ৪-৫ সেপ্টেম্বর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে ক্লাইমেট ফাইন্যান্স সামিট। সম্মেলনে জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং বাস্তব ও দেশভিত্তিক প্রকল্পে অর্থ সংযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
১০-১১ সেপ্টেম্বর ট্রাবজনে অনুষ্ঠিত হবে ওশান অ্যান্ড সিজ সামিট। এতে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সহনশীলতা, ব্লু কার্বন, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিনিময় ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া বাকু ক্লাইমেট উইক, নিউইয়র্ক ক্লাইমেট উইক ও ফিজিতে প্রি-কপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনের মাধ্যমে কপ-৩১-এর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে।
বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব, অর্থায়ন ও উদ্ভাবনকে জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত করতে একাধিক কপ-৩১ বিজনেস ফোরামও আয়োজন করা হবে। এর চূড়ান্ত আয়োজন ১২-১৩ নভেম্বর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।তুরস্কের কপ-৩১ প্রেসিডেন্সি বলছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা হবে।