অ্যাডভোকেট টি এইচ খানের জানাজা সম্পন্ন

আদালত প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি,বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট টি এইচ খানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে হাজারও আইনজীবী, বিচারপতিদের অংশগ্রহণে তার জনাজা সম্পন্ন হয়।

Islami Bank

জানাজায় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতিরা, সাবেক সম্পাদকরা, সিনিয়র আইনজীবীরা ও হাজারো আইনজীবী অংশ নেন। জানাজার আগে টি এইচ খানের বড় ছেলে সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন। তার জীবনী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জানাজা শেষে প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুলে দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিকে বিচারপতি টিএইচ খানের মৃত্যুতে শোক-শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য বন্ধ রয়েছে।

গতকাল (১৭ জানুয়ারি) সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

টিএইচ খান ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৪২ সালে তৎকালীন কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ (অনার্স) ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ পাস করেন।

১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। একই বছর ২৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সালেহ আকরামের নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারপতি নিয়ে ঢাকা হাইকোর্টের যাত্রা শুরু হয়, সেদিন থেকে বিচারপতি টিএইচ খান একজন আইনজীবী হিসেবে সেই আদালতে (বর্তমান সুপ্রিম কোর্টে) পদচারণা শুরু করেন। তিনি বিচারপতি টিএইচ খান নামে সমধিক পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম মো. তাফাজ্জাল হোসেন খান।

one pherma

১৯৬৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ১৯৭৩ সালের জুলাই থেকে আবার আইন ব্যবসায় ফিরে আসেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের নেতৃত্বে নতুন সামরিক আইন জারি করা হয়। তখন তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে বিরোধিতা করার জন্য তিনি গ্রেফতার হন।

বিচারপতি টিএইচ খান ১৯৯২ সালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান।

১৯৯২ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশনের মেম্বার এবং একই বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৫ সালে টিএইচ খান এশিয়া জোন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পদে বিচারকার্য পরিচালনা করে দেশে ফিরে আসেন এবং আবার আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

ইবাংলা /টিপি /১৭ জানুয়ারি

Contact Us