প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এর অর্থবিল এবং নির্দিষ্টকরণ বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কক্ষে তিনি বিলে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ অন্যান্যরা।
এর আগে সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়।পরে মন্ত্রিসভা অনুমোদিত বাজেট ফাইলে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী।রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনের ষষ্ঠ তলার নির্ধারিত গ্যালারি থেকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শোনেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন…উত্থাপন চলছে দেশের ৫৫তম বাজেট
বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে।
বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।